আনন্দবাজার পত্রিকা – দুর্গা পুজোর নির্ঘণ্ট ১৪১৯

আনন্দবাজারকে কিছু বলার নেই। দুর্গা পুজোর নির্ঘন্টে বেঙ্গালুরু বাদ। পুজোর নির্ঘন্টে দিল্লি, মুম্বাই আছে। ঠিক আছে। চেন্নাইও আছে। আমি নিশ্চিৎ যে চেন্নাইয়ের চেয়ে বেঙ্গালুরুতে অনেক বেশী সংখ্যায় দুর্গা পুজো হয়।

আনন্দবাজার পত্রিকা -দুর্গাপুজোর নির্ঘণ্ট ১৪১৯.

Advertisements

পরিসংখ্যান

আমাদের দেশে:

  • প্রায় ১.৫ কোটি শিশু শ্রমিক আছে যাদের বয়স ১৪ বছরের নীচে। শিশু শ্রমিকদের প্রায় পঁচাশি ভাগ গ্রামে থেকে।
  • শিশু শ্রমিকদের প্রায় ৫০ শতাংশ সপ্তাহে সাত দিন কাজ করে এবং ১৬ ঘন্টায় ১০ টাকার কম আয় করে।
  • এদের জীবনে শৈশব নেই। অনেকেই খুবই অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে কাজ করে।

       

আমাদের দেশে:

  • শুধু দিল্লীতেই প্রতি বারো ঘন্টায়, একজন গৃহবধূর গায়ে আগুন ধরানো হয়।
  • প্রতি আধ ঘন্টায় একজন মহিলাকে নরপশুরা বলাৎকার করে।

              

Reference: The Week, August 17, 2008

৬২তম স্বাধীনতা দিবসে সামান্য হিসেব-নিকেশ

৬২তম স্বাধীনতা দিবসে একটু হিসেব করতে বসেছি।

      

আমার দেশ আমাকে কি দিয়েছে:

  • সম্পূর্ণ বিনাপয়সায় স্বাধীনতা পেয়েছি। ব্রিটিশের উৎপাত আমাকে দেখতে অথবা সহ্য করতে হয় নি।

    • ভারতবর্ষের স্বাধীনতা সংগ্রামের কথা শুধু ইতিহাস বইয়ে পড়ে পাশ করেছি। স্বাধীনতার মর্ম বুঝতে পারি নি।
  • ভগবানের আশীর্বাদে মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্মে, নামমাত্র খরচায় স্কুলে এবং কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েছি। 
  • একজন শিশুর ভালভাবে বড় হওয়ার জন্য যেরকম সুস্থ পরিবেশ লাগে, আমার দেশ আমাকে সেইরকম সুস্থ এবং আধুনিক পরিবেশে দিয়েছে। বড় হওয়ার জন্য আমাকে সেরকম বাড়াবাড়ি রকমের সংগ্রাম করতে হয় নি।

        

আমি দেশকে কি দিয়েছি? এবার সেইটা লেখার সময় হয়েছে:

  • কিছুই মনে পড়ছে না।

       

 পেতে পেতে এমন বাজে অভ্যেস হয়ে গেছে, যে কিছু ফেরত দেওয়ার কথা মনে পড়ে না।

Landline

জঘন্য দুর্ঘটনাটা ঘটার প্রায় দেড় ঘন্টা পরে জানতে পারলাম। ঠিক কি এবং কোথায় ঘটেছে ভাল করে বোঝার আগেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যSerial blast at Bangalore. Courtsey NDTV.comবহার করা একরকম অসম্ভব হয়ে পড়ল। এতদিন ভাবতাম যে ল্যাণ্ডলাইনে ফোন করবার প্রয়োজন নেই বললেই চলে। এইবার টের পেলাম ল্যাণ্ডলাইন ছাড়া গতি নেই। ভাগ্যিস্ উঠে যায় নি!

এই ধরণের ঘটনা ঘটলে, দরকার না থাকলে, যেখানে আছি সেখানে থাকাই ভাল। রাস্তায় ভীড় বাড়ালে ক্ষতি বাড়ার আশঙ্কা থেকে যায়। কিন্তু অত ভাবার সময় কোথায়? সবাই বাড়ি ফিরতে চায়। যানবাহন ঘন্টায় চার কিলোমিটার বেগে চলতে পেরেছে, এটাই যথেষ্ট। এর বেশী আশা করা অন্যায়।

একটা শহরের উপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেল। নির্দোশ সাধারণ মানুষ বিশ্রী ভাবে নাকানি চোবানি খেল। এখন দোষীদের ধরার দায়িত্ব আমার, আপনার এবং সরকারের।

সেদিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যা

//www.thehindu.com/mp/2008/05/14/stories/2008051450590100.htm)গত দশই মে, ব্যাঙ্গালোরের চৌডাইয়া মেমোরিয়াল হলে মান্না দের গান শুনলাম। সঙ্গে বিনাকা/সিবাকা গীতমালা খ্যাত আমিন সায়ানি

টিকিটের দাম ভাল। তবুও লোকজনের সমাগম বেশ ভালই হয়েছিল। দর্শকের গড় বয়স প্রায় ৪০ (চল্লিশ)। কোন স্কুল অথবা কলেজ ছাত্র চোখে পড়ল না। হয়তো কোন মান্না কণ্ঠী এলে, এনারা আসতেন!

৮৯ বছরের মান্না দে প্রায় তিন ঘণ্টা গান করলেন। শুধু আমার ভাল লেগেছে বললে কম বলা হয়। গলায় বয়সের ছাপ কখনো কখনো ধরা পড়েছে। তবে হাতি বসলেও ঘোড়ার চেয়ে লম্বা থাকে! অনেকের অনুরোধে মাত্র একটা বাংলা গান গাইলেন। “এই কুলে আমি আর ওই কুলে তুমি….”।

আমিন সায়ানির সঙ্গে অনেক গল্প করলেন। মান্না দে হিন্দী এবং বাংলায়, ওনার সময়ের প্রায় সব নায়কের গলায় গান গেয়েছেন। এমনকি কিশোরকুমারের জন্য প্লেব্যাক করেছেন। হঠাৎ গভীর রাত্রে উনি কিশোরের ফোন পেলেন। গভীর রাত্রে ফোন পেয়ে উনি অবাক। গম্ভীর গলায় ফিসফিস করে (যাতে কেউ না শুনে ফেলে!) কিশোর মান্নাদাকে জানিয়ে দিলেন যে মান্নাদা যদি পরের দিন কিশোরের জন্য গান রেকর্ডিং না করেন, তা হলে ভাল হয়। মান্নাদার খুব কৌতুহল! কোথা থেকে কিশোর ফোন করছেন? কিশোর মহাবালেশ্বরে। প্রডিউসার নাকি কিশোরকে পারিশ্রমিক দেন নি। তাই কিশোর প্রডিউসারকে ফাঁকি দিয়েছেন। গানটা নাকি কিশোরের গাওয়ার কথা ছিল। সিনেমার নামটা মান্না দে বলেন নি। আমিও জানি না।

আরও অনেক গল্প করেছেন। ছেলেবেলার গল্প। মদনমোহন, শচীন কর্তা এবং রাহুল দেবের গল্প। ওনার কাছ থেকে জানা গেল যে সায়গাল কৃষ্ণচন্দ্র দে মহাশয়কে কিষ্টবাবু বলে ডাকতেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মান্না দের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অনিল বিশ্বাস।

সব মিলিয়ে অসাধারণ স্মরণীয় এক সন্ধ্যা।

বিরিঞ্চি বাবা

//satyajitray.ucsc.edu/films/kapurush.htmlদ্য উইক পত্রিকায় অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটা পড়ে রীতিমতো চমকে গেলাম। খারাপও লাগলো। অর্কুট, ফেসবুক থেকে শুরু করে বিগআড্ডা অবধি বর্তমানে অজস্র স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট রয়েছে।

এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছবি, টেক্সট, ভিডিও, অডিওর সাহায্যে মানুষ মানুষের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান করে, প্রাণের কথা বার্তা বলে। ঠিক আছে। ভাল ব্যাপার।

স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যা হয় সেটা টেলিফোন অথবা পোস্টের সাহায্য নিয়ে নীতিগত ভাবে সম্ভব। এক কালে সেটাও হতো। পত্রমিতালী অথবা পত্রবন্ধু সম্বন্ধে সঙ্গে হয়তো অনেকের ধারণা আছে।

চিন্তার বিষয়! বাস্তব জগতে যেমন প্রতারক হয়, তেমনি এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং জগতে প্রতারক হয়। দুঃখের বিষয় এদের ধরা বাস্তব জগতের চেয়ে অনেক শক্ত। এবং এরা আমাদের সমাজে বেশ ক্ষতি করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আমাদের মধ্য ভদ্র সভ্য জীবন যাপন করেন। নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা আর ভুল তথ্য দিয়ে ভূয়ো সেজে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এক নয়। যেমন আমি আমার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করি নি। কিন্তু যেটুকু তথ্য দিয়েছি, সেটা ভুল নয়।

কোন এক নিলেশ সাহ (আসল নাম নয়) যিনি বাস্তবে একজন অতি সাধারণ ইঞ্জিনারিং ছাত্র, তিনি ইন্টারনেটে লণ্ডনে বসবাসকারী এক ফিটনেস ট্রেনার। এমনিতে উনি সাইকেলও ঠিক করে চালান না।

এইরকম হরি পিল্লাই (অবশ্যই নকল নাম) নামে এক জনতা ওয়েবে রাজস্থানী ফিনানসিয়াল কনসালটেন্ট অথবা ভালবাসার গুরু (লাভ গুরু)। বাস্তবে উনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। ওনার স্ত্রীও নাকি জানেন না, উনি ভার্চুয়াল জগতে কি জিনিস!

এই রকম আরো অনেক তথ্য অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটায় আছে।

বিরিঞ্চি বাবা মুর্দাবাদ!

বাংলা কম্পিউটিঙের খোঁজ খবর

অনেকদিন বাংলা কম্পিউটিঙের খোঁজ খবর নেওয়া হয় নি। শেষ নিয়েছিলাম  ২০০৬ সালে (জুন মাসের মাঝামাঝি)

আমার মতে বাংলা কম্পিউটিঙের উপর ভাল কাজের বেশীর ভাগটাই বাংলাদেশে হয়। সেটাই স্বাভাবিক। বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। তাহলে কি হিন্দী কম্পিউটিঙের কাজ ভারতবর্ষে অনেক হচ্ছে। কিন্তু কাজ কি খুব ভাল হয়? বলতে পারব না। একুশে অথবা অমিক্রনল্যাবের মত ভাল ওয়েবসাইট আমার কোন ভারতীয় ভাষায় চোখে পড়ে নি।  ভাষা ইন্ডিয়া ব্যবহার হয়? হলে ভাল। আমার কোন কাজে লাগে না।

গুগল ঘেঁটে ইউনিকোড ভারতীয় অনলাইন এডিটরের সেরকম উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়ল না। মহাকবি মন্দ নয়। ইউনিকোড অনলাইন কোনমতে চলে যায়। এই অনলাইন এডিটরগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা বেশ কঠিন। এডিটর না বলে টার্মিনাল বলাই ভাল। বার বার কপি পেস্ট করে কাজ করতে কার ভাল লাগবে? যদি গুগল ডক্সে বাংলা বা অন্য ভারতীয় ভাষার এডিটর এসে যায়, তাহলে বেশ উপকার হবে। গুগল ডক্সে ফায়ারফক্স প্লাগিন দিয়ে কাজ চালানো যায়। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে প্লাগিন হয় নাকি? মাথা ব্যাথা নেই।  কিন্তু সেটা আমার কাছে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতন। বাংলায় লিখে গুগল ডক্সে পিডিএফ ফাইল বানালে বাংলা ফন্ট আসে না। যে কোনো অনলাইন অফিসে এই সমস্যা।

তবে ভারতীয় IMEর মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হল লিপিকার। আশা রাখছি খুব শীঘ্র, একুশে (একুশে অবশ্য একটা IME নয়), অভ্র এবং শাব্দিকের মত লিপিকারও ভাল সফটওয়্যার হবে। আর একই সফটওয়্যার দিয়ে মোটামুটি সব ভারতীয় ভাষায় লেখা যায়। এটা খুব ভাল সুবিধে। লিপিকারে বাংলায় লিখতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। লিপিকারকে জানিয়েছি।

এখনো বাংলায় ভাল ওপেন সোর্স পাবলিশার নেই। একদিন স্ক্রাইবাস হয়তো সেই আশা পূরণ করবে।

বাংলা পত্রিকার মাইক্রোসফট

দেশ পত্রিকা খুব নিয়মিত পড়েন না এইরকম শিক্ষিত বাঙালীর সংখ্যা প্রচুর। আমি সেই দলে। কিন্তু শিক্ষিত বাঙালী দেশ পত্রিকার নাম শোনেন নি, এটা সম্ভব নয়। সেই দেশ পত্রিকা ২ নভেম্বর, ২০০৭-এ পঁচাত্তরে পা দিল। দেশ পত্রিকার জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৪শে নভেম্বর (১৩৪০ বঙ্গাব্দের ৮ই অগ্রহায়ণ)।

আমার ধারণা ছিল, দেশ পত্রিকা বর্তমান কালে সবচেয়ে বয়স্ক পত্রিকা। কিন্তু ২ ডিসেম্বর, ২০০৭এর দেশ পত্রিকার সংখ্যা থেকেই জানতে পারলাম শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘ প্রকাশিত বাংলা সাময়িক উদ্বোধন পত্রিকার বয়স ১০৯ বছর।

ছোটবেলা থেকে দেশ পড়ে যাচ্ছি, যদিও প্রথমবার দেশ পত্রিকা পড়ার স্মৃতি আমার নেই। নীললোহিতের লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় দেশ পত্রিকায়। যতদিন পারব, সুযোগ পেলেই দেশ পত্রিকা পড়ে যাব।

কিন্তু আজ দেশ পত্রিকার কোন সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা নেই। বাংলা সাহিত্য জগতে কল্কে পেতে গেলে দেশ পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হলে সবচেয়ে ভাল। এটা সুস্থ নয়। দেশ পত্রিকা সাপ্তাহিক থেকে পাক্ষিক হলেও কোন পত্রিকাই সেই শূন্য স্থানটি পূরণ করতে পারল না। সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকার বিক্রী হয়তো বেশ ভাল, কিন্তু দেশ পত্রিকার ধারে কাছে আসে না।

অপ্রতিদ্বন্দী দেশ এবার এগিয়ে যাচ্ছ শতবর্ষের দিকে। থামার কোন ইঙ্গিত নেই। আর সময়মতো নিজের বিন্যাস পাল্টে দিব্যি নিজেকে সমকালীন করে রাখছে।

দেশ পত্রিকাকে আমার অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আর আমার বিনীত প্রশ্ন – “দেশ পত্রিকা কবে অনলাইন হবে?”

বাংলা ওয়েবসাইট – স্টার আনন্দ এবং আনন্দ পাবলিশার্স

স্টার আনন্দকে ধন্যবাদ। অসাধরণ না হলেও একটা মোটামুটি বাংলা ইউনিকো ভিত্তিক আধুনিক ওয়েবসাইটে জন্য।Star Ananda Website

এর পাশে আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট দেখে অবাক এবং বিরক্ত হলাম। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৭এও নন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট দেখা যায় না। সাইটে বলা আছে নেটস্কেপ কম্যুনিকেটর ৪.০৩ অথবা এর উপরের ভার্সানে দেখা যাবে। তবে নেটস্কেপ কম্যুনিকেটর ৬.০ বাদ দিতে হবে। আমার ধারণা আনন্দ পাবলিশার্স রসিকতা করছে। কোথাও লেখা নেই, বাংলা না দেখতে পেলে কি এবং কেন করা উচিৎ?

আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট শেষ কবে সম্পাদিত হয়েছিল? সম্ভবত ২০০০ সালে। এদের ওয়েবসাইট দেখে মনে হয় যে বিটস্ট্রীম ফন্ট ছাড়া ওয়েবসাইট বানানো যায় না।

কি আর করা যাবে? আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট না দেখলে কারোর কিছু Ananda Publishers Websiteএসে যায় না। 

স্টার আনন্দ ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স এবং অপেরাতে সরাসরি দেখা যা ইউনিকোড ফন্ট থাকলেই চলবে। 

 

 

শেষ চিঠি

গতকাল থেকে ভেবে যাচ্ছি। কিছুতেই মনে করতে পারছি না, শেষ কবে ইনল্যাণ্ড লেটার অথবা Inland Letter. Courtsey http://www.stampsofindia.comপোস্টকার্ড ব্যবহার করেছি। কাকে লিখেছিলাম? আজ প্রায় দশ বছরের একটু বেশী হয়ে গেল আমি চিঠি লিখছি না। এবং নিজেও ব্যক্তিগত চিঠি পাচ্ছি না। প্রথমে হটমেল, তারপর ইহাহু আর এখন জিমেলের কৃপায় হাতে লেখা চিঠিকে বিদায় জানিয়েছি। আর আজকাল ই-মেল লেখাও কমে গেছে। মোবাইল ফোনের এস.এম.এস দিয়ে কাজ চলে যাচ্ছে। এছাড়া আছে অর্কুট, ফেসবুক, মাইস্পেস ইত্যাদি সামাজিক ওয়েবসাইট। আর আছে এই ওয়ার্ডপ্রেসের মত ব্লগ অথবা অনলাইন জার্নাল সাইট।

আমার একটা ডাকবাক্স আছে। তাতে ব্যাঙ্ক, টেলিফোন কম্পানী থেকে অনেক চিঠি আসে। ডাকঘর উঠে যায় নি। কিন্তু, যে কোন শহরের স্কুল অথবা কলেজ ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে কাছাকাছি কোন ডাকঘরের অবস্থান জানবার চেষ্টা করুন। অনেকেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে।

আর ডাকঘরের সঙ্গে আমাদের চিরন্তন রোমান্টিক সম্পর্কের দিন বোধহয় শেষ। রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টার থেকে কিশোরকুমারের ডাকিয়া ডাক লায়া অথবা সেদিনের চিঠি আয়ি হ্যায় পর্যন্ত নানা আঙ্গিকে গানে, গল্পে, কবিতায় এবং সিনেমায় ডাকঘর এসেছে। পত্র-সাহিত্য হয়। ই-মেলকে সাহিত্য হিসাবে ভাবা শক্ত। তবে বিবর্তন চিরন্তন। ভবিষ্যতে আমরা ভাবতেই পারি!

এর পরেও ভারতীয় ডাকঘর হাল ছেড়ে দেয় নি। আজও ভারতীয় ডাকঘর বছরে প্রায় তিনশো কোটি চিঠি বিলি করে। এখনো ভারতে ১৫৪১৪৯ ডাকঘর এবং ৫৬৪৭০১ ডাকবাক্স আছে। চাইলেই, চিঠি লেখা যায়।

আজকাল পোস্টকার্ডের দাম কত? আমি জানি না। আপনি জানেন কি?