দ্য উইক পত্রিকায় অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটা পড়ে রীতিমতো চমকে গেলাম। খারাপও লাগলো। অর্কুট, ফেসবুক থেকে শুরু করে বিগআড্ডা অবধি বর্তমানে অজস্র স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট রয়েছে।
এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছবি, টেক্সট, ভিডিও, অডিওর সাহায্যে মানুষ মানুষের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান করে, প্রাণের কথা বার্তা বলে। ঠিক আছে। ভাল ব্যাপার।
স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যা হয় সেটা টেলিফোন অথবা পোস্টের সাহায্য নিয়ে নীতিগত ভাবে সম্ভব। এক কালে সেটাও হতো। পত্রমিতালী অথবা পত্রবন্ধু সম্বন্ধে সঙ্গে হয়তো অনেকের ধারণা আছে।
চিন্তার বিষয়! বাস্তব জগতে যেমন প্রতারক হয়, তেমনি এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং জগতে প্রতারক হয়। দুঃখের বিষয় এদের ধরা বাস্তব জগতের চেয়ে অনেক শক্ত। এবং এরা আমাদের সমাজে বেশ ক্ষতি করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আমাদের মধ্য ভদ্র সভ্য জীবন যাপন করেন। নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা আর ভুল তথ্য দিয়ে ভূয়ো সেজে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এক নয়। যেমন আমি আমার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করি নি। কিন্তু যেটুকু তথ্য দিয়েছি, সেটা ভুল নয়।
কোন এক নিলেশ সাহ (আসল নাম নয়) যিনি বাস্তবে একজন অতি সাধারণ ইঞ্জিনারিং ছাত্র, তিনি ইন্টারনেটে লণ্ডনে বসবাসকারী এক ফিটনেস ট্রেনার। এমনিতে উনি সাইকেলও ঠিক করে চালান না।
এইরকম হরি পিল্লাই (অবশ্যই নকল নাম) নামে এক জনতা ওয়েবে রাজস্থানী ফিনানসিয়াল কনসালটেন্ট অথবা ভালবাসার গুরু (লাভ গুরু)। বাস্তবে উনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। ওনার স্ত্রীও নাকি জানেন না, উনি ভার্চুয়াল জগতে কি জিনিস!
এই রকম আরো অনেক তথ্য অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটায় আছে।
বিরিঞ্চি বাবা মুর্দাবাদ!
নমস্কার! ইডেন উদ্যান থেকে বলছি
নভেম্বর 7, 2008 — bhadraনমস্কার! ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু। আমার সঙ্গে আছেন পুষ্পেন সরকার ……….. আর বিশেষজ্ঞের মতামত দেবেন কার্তিক বসু। চমৎকার পরিবেশ ……….. সবুজ মাঠ ……….. উত্তর দিক থেকে গঙ্গার হাওয়া .……….. হাজার হাজার কালো মাথা ……….. টস হয়ে গেছে ……….. । আসছেন রবার্টস ……….. খাটো লেংথের বল ……….. অফ স্টাম্পের একটু বাইরে ……….. দেখেশুনে ছেড়ে দিলেন ………..। পরের বল ……….. চার! ……….. চমৎকার কভার ড্রাইভ ………..। ফিল্ডিঙের একটু রদবদল ……….. তিনটে স্লিপ, একটা গালি ……….. চলেছেন রবার্টস ……….. গুড লেংথ বল ……….. বোলার পরিবর্তন ……….. ল্যান্স গিবস ……….. ওভার দ্য উইকেট ……….. দেখেশুনে খেললেন ……….. বোলারের হাতে ফেরৎ যাওয়ার আগেই এক রান ……….. দলের রান গিয়ে দাঁড়ালো ……….. এর মধ্যে নিজের সংগ্রহ ……….. ছটা চার, একটা ছয় ……….. কার্তিক তোমার কি মনে হয়? ………..
আমি বলব সৌরভ, শচীন, রাহুলের দুর্ভাগ্য। সেই সঙ্গে আমাদেরও। পঞ্চাস, ষাট, সত্তর এবং কিছুটা আশির দশকে বাঙালীর মনে ক্রিকেটকে রোমান্টিক করে তোলার পেছনে অজয় বসু, পুষ্পেন সরকার, কমল ভট্টাচার্য্য, প্রেমাংশু চ্যাটার্জি, কার্তিক বসুদের বেতার ধারাবিবরণীর (রেডিওতে রিলে বলতাম) অনেক অবদান। গুগলে সার্চ করে এনাদের একটা ছবিও পেলাম না। এনারা না থাকলে পাতৌদি, বেদী, প্রসন্ন, চন্দ্রশেখর, গাভাসকার, বিশ্বনাথরা বাঙালীর মনে অমর হয়ে যেতেন কিনা সন্দেহ হয়। আমি খুব অবাক হবো, যদি জানতে পারি ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা এঁদের জন্যে কিছু ভেবেছেন এবং করেছেন।
অজয় বসু এবং কার্তিক বসু আমাদের মধ্যে নেই। আমার স্মৃতি তাই বলছে। বাকিদের খবর কেউ জানেন? শেষ কবে শুনেছিলাম "নমস্কার! ইডেন থেকে বলছি ……….."? আমার মনে পড়ছে না।
আকাশবাণী একটু চেষ্টা করলে হয়তো এই ধারাবিবরণীগুলোর একটা সিডি বের করতে পারবে। কেউ শুনছেন?