The Tradition of Ignoring and Depriving West Bengal Cricketers

ভেবেছিলাম বিশ্বকাপের তিরিশ জনের প্রাথমিক দলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া আরো একজন পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটারের নাম দেখব। রণদেব বসুর নাম নেই দেখে প্রথমে অবাক এবং পরে হতাশ হয়েছিলাম। আবশ্য এইবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না থাকলে ব্যাপারটা প্রচণ্ড দৃষ্টিকটু লাগত।Ranadeb Bose bowls during the three day practice match at Bangalore, Indian Board President's XI v Sri Lankans, Bangalore, November 28, 2005 Source: http://www.cricinfo.com/

কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটারদের জীবনে বঞ্চনার ঘটনা এই প্রথম নয়। সেই সুঁটে ব্যানার্জীর আমল থেকে শুরু। পরবর্তীকালে গোপাল বসু, রাজু মুখার্জী, বরুণ বর্মন, সম্বরণ ব্যানার্জী, উৎপল চ্যাটার্জীরা (বিশদে জানতে হলে এই পৃষ্ঠা দেখুন) টেস্ট ক্রিকেটার হিসাবে অবসর নেওয়ার সুযোগ পাননি। ভুল লিখলাম, আমার লেখা উচিৎ সুযোগ দেওয়া হয় নি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ব্যতিক্রমের পর্যায় চলে গেছেন।

রণদেব বসু কেমন খেলছেন? গত (অর্থাৎ ২০০৫-২০০৬) দেওধর ট্রফিতে উনি সবচেয়ে বেশী উইকেট নিয়েছেন। এই বছরের (২০০৬-২০০৭) দেওধর ট্রফি এখনো শুরু হয়নি (২৪শে ফেব্রুয়ারী শুরু)। দেওধর ট্রফি একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এই রঞ্জি মরশুমে (২০০৬-২০০৭) এখন পর্যন্ত যোগিন্দার শর্মার (সাতটা ম্যাচে ৩৯) পরেই রণদেব বসু (ছয়টা ম্যাচে ৩৮) সবচেয়ে বেশী উইকেট নিয়েছেন। আর ইশান্ত শর্মা ছয়টা ম্যাচে ২৯টা উইকেট নিয়েছেন। তাহলে পাঠকরাই খুঁজে নিন রণদেব বসুকে বাদ দেওয়ার কারণ। এটা পরিস্কার যে কারণটা আর যাই হোক ক্রিকেটিও কারণ নয়।

খুব সম্ভবত রণদেব বসু ২০০৭এর ক্রিকেট বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের পরেই ২০০৭ জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। রণদেব বসু এইভাবে উইকেট নিতে থাকলে বারবার ওনাকে উপেক্ষা করা নির্বাচকদের পক্ষে খুব কঠিন কাজ হবে। একই কথা মনোজ তিওয়ারী এবং অভিষেক ঝুনঝুনওয়ালার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

আর কতদিন বলতে হবে ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে’?

Lage Raho Dada

ভারতের দক্ষিণ আফ্রিকায় ক্রিকেট সফর আজকে শেষ হল। সৌরভ কেমন ব্যাট করল সেটা আমরা সবাই জানি। এক কথায় টেস্ট Sourav Ganguly cuts on the off side, South Africa v India, 3rd Test, Cape Town, 4th day, January 5, 2007 © AFP সিরিজে আমরা সৌরভকে ফিরে পেলাম। শুধু কি ফিরে পেলাম? কম বলা হল। একজন আরো পরিণত ব্যাটসম্যানকে আমরা পেলাম। এই সৌরভকে আমরা ভার্সন ২.০ বলতে পারি।

এখন একটাই প্রার্থনা যে ব্যাটসম্যান সৌরভ এখান থেকে যেন আরো এগিয়ে যান। ভার্সন ৩.০, ৪.০ ইত্যাদি। কখন থামবে সেটা সৌরভ নিজেই ঠিক করুন।

তাহলে আসুন, আমরা সবাই মিলে বলি “লাগে রহো দাদা” :-)

Indian Cricket Team’s Assistant Coach Ian Frazer

Ian Frazer, Rahul Dravid and Greg Source: http://www.cricinfo.com/আজকের (১৭ দিসেম্বর, ২০০৬) আনন্দবাজারের ২২ নম্বর পৃষ্ঠায় গৌতম ভট্টাচার্যের লেখায় জানতে পারলাম ভারতীয় বোলিং কোচের কাজ যিনি চালান, সেই ইয়ান ফ্রেজার সারাজীবন প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে মাত্র চার ওভার বল করেছেন।

প্রথমে বিশ্বাস করি নি। আনন্দবাজারের খবর বলে কথা। যথারীতি গুগলে খুজলাম। ঠিক ধরেছি। মোটেই সত্যি নয়। চার ওভার নয়। চার বল। ইয়ানবাবু টেষ্ট অথবা ওয়ান ডে খেলেন নি। সতেরোটা প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে, চার বল করে চার রান দিয়েছেন।

ইয়ান ফ্রেজারকে দোষ দিয়ে কি হবে? আমরাই সুযোগ করে দিয়েছি, আমাদের বোকা বানানোর।

আর ইয়ান ফ্রেজারের চিন্তা কি? গুরু গ্রেগ ওনাকে আগলে রেখেছেন।

Raj Singh Dungarpur and Greg Chappell

Raj Sing Dungarpur and Greg Chappellরাজ সিংহ দুঙ্গারপুর ভারতীয় ক্রিকেটে খুব চেনা নাম। তবে ক্রিকেট প্লেয়ার হিসাবে ওনাকে কতজন মনে রেখেছন? বলতে পারব না। খেলার মাঠের বাইরে ওনার প্রতাপ বেশী। কিন্তু গ্রেগ চ্যাপেল? ক্রিকেট মহলে ওনার পরিচিতি নিয়ে কোন প্রশ্নই উঠতে পারে না। বিশেষ করে ক্রিকেট মাঠে, ব্যাট হাতে গ্রেগ চ্যাপেল এক অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।

আর কোচ গ্রেগ চ্যাপেল? জানা যায় না। ২০০৭ সালের ওয়ার্ল্ড কাপের পর জানা যাবে। ভারতীয় ক্রিয়া জগতে সবাই মিষ্টি পাকা আম চায়। গাছের খবর রাখার সময় নেই।

কিন্তু একজন জানেন। তিনি আমাদের রাজ সিংহ দুঙ্গারপুর। গতকালের (২০ কার্তিক, ১৪১৩, সোমবার ৬ নভেম্বর) আনন্দবাজারে গৌতম ভট্টাচার্য আমাদের জানিয়ে দিয়েছেন।

চ্যাপেলকে কি রাজ খুব পছন্দ করেন? জবাবে রাজ বলেন “একেবারেই না। পছন্দ করি কে বলল? ওটা খুব নরম শব্দ। আমি চ্যাপেল মুগ্ধ।”

এই না হলে রাজ সিংহ দুঙ্গারপুর। ভারতীয় ক্রিকেটের প্রতিভূ। গুরু গ্রেগ ঠিক এইরকম বোদ্ধা পছন্দ করেন।