ভেবেছিলাম বিশ্বকাপের তিরিশ জনের প্রাথমিক দলে সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া আরো একজন পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটারের নাম দেখব। রণদেব বসুর নাম নেই দেখে প্রথমে অবাক এবং পরে হতাশ হয়েছিলাম। আবশ্য এইবার সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ের নাম না থাকলে ব্যাপারটা প্রচণ্ড দৃষ্টিকটু লাগত।
কিন্তু পরে ভেবে দেখলাম পশ্চিমবঙ্গের ক্রিকেটারদের জীবনে বঞ্চনার ঘটনা এই প্রথম নয়। সেই সুঁটে ব্যানার্জীর আমল থেকে শুরু। পরবর্তীকালে গোপাল বসু, রাজু মুখার্জী, বরুণ বর্মন, সম্বরণ ব্যানার্জী, উৎপল চ্যাটার্জীরা (বিশদে জানতে হলে এই পৃষ্ঠা দেখুন) টেস্ট ক্রিকেটার হিসাবে অবসর নেওয়ার সুযোগ পাননি। ভুল লিখলাম, আমার লেখা উচিৎ সুযোগ দেওয়া হয় নি। সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায় ব্যতিক্রমের পর্যায় চলে গেছেন।
রণদেব বসু কেমন খেলছেন? গত (অর্থাৎ ২০০৫-২০০৬) দেওধর ট্রফিতে উনি সবচেয়ে বেশী উইকেট নিয়েছেন। এই বছরের (২০০৬-২০০৭) দেওধর ট্রফি এখনো শুরু হয়নি (২৪শে ফেব্রুয়ারী শুরু)। দেওধর ট্রফি একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। এই রঞ্জি মরশুমে (২০০৬-২০০৭) এখন পর্যন্ত যোগিন্দার শর্মার (সাতটা ম্যাচে ৩৯) পরেই রণদেব বসু (ছয়টা ম্যাচে ৩৮) সবচেয়ে বেশী উইকেট নিয়েছেন। আর ইশান্ত শর্মা ছয়টা ম্যাচে ২৯টা উইকেট নিয়েছেন। তাহলে পাঠকরাই খুঁজে নিন রণদেব বসুকে বাদ দেওয়ার কারণ। এটা পরিস্কার যে কারণটা আর যাই হোক ক্রিকেটিও কারণ নয়।
খুব সম্ভবত রণদেব বসু ২০০৭এর ক্রিকেট বিশ্বকাপে সুযোগ পাচ্ছেন না। কিন্তু বিশ্বকাপের পরেই ২০০৭ জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে টেস্ট এবং একদিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতা। রণদেব বসু এইভাবে উইকেট নিতে থাকলে বারবার ওনাকে উপেক্ষা করা নির্বাচকদের পক্ষে খুব কঠিন কাজ হবে। একই কথা মনোজ তিওয়ারী এবং অভিষেক ঝুনঝুনওয়ালার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
আর কতদিন বলতে হবে ‘সেই ট্র্যাডিশন সমানে চলছে’?

সিরিজে আমরা
রাজ সিংহ দুঙ্গারপুর
নমস্কার! ইডেন উদ্যান থেকে বলছি
নভেম্বর 7, 2008 — bhadraনমস্কার! ইডেন উদ্যান থেকে বলছি অজয় বসু। আমার সঙ্গে আছেন পুষ্পেন সরকার ……….. আর বিশেষজ্ঞের মতামত দেবেন কার্তিক বসু। চমৎকার পরিবেশ ……….. সবুজ মাঠ ……….. উত্তর দিক থেকে গঙ্গার হাওয়া .……….. হাজার হাজার কালো মাথা ……….. টস হয়ে গেছে ……….. । আসছেন রবার্টস ……….. খাটো লেংথের বল ……….. অফ স্টাম্পের একটু বাইরে ……….. দেখেশুনে ছেড়ে দিলেন ………..। পরের বল ……….. চার! ……….. চমৎকার কভার ড্রাইভ ………..। ফিল্ডিঙের একটু রদবদল ……….. তিনটে স্লিপ, একটা গালি ……….. চলেছেন রবার্টস ……….. গুড লেংথ বল ……….. বোলার পরিবর্তন ……….. ল্যান্স গিবস ……….. ওভার দ্য উইকেট ……….. দেখেশুনে খেললেন ……….. বোলারের হাতে ফেরৎ যাওয়ার আগেই এক রান ……….. দলের রান গিয়ে দাঁড়ালো ……….. এর মধ্যে নিজের সংগ্রহ ……….. ছটা চার, একটা ছয় ……….. কার্তিক তোমার কি মনে হয়? ………..
আমি বলব সৌরভ, শচীন, রাহুলের দুর্ভাগ্য। সেই সঙ্গে আমাদেরও। পঞ্চাস, ষাট, সত্তর এবং কিছুটা আশির দশকে বাঙালীর মনে ক্রিকেটকে রোমান্টিক করে তোলার পেছনে অজয় বসু, পুষ্পেন সরকার, কমল ভট্টাচার্য্য, প্রেমাংশু চ্যাটার্জি, কার্তিক বসুদের বেতার ধারাবিবরণীর (রেডিওতে রিলে বলতাম) অনেক অবদান। গুগলে সার্চ করে এনাদের একটা ছবিও পেলাম না। এনারা না থাকলে পাতৌদি, বেদী, প্রসন্ন, চন্দ্রশেখর, গাভাসকার, বিশ্বনাথরা বাঙালীর মনে অমর হয়ে যেতেন কিনা সন্দেহ হয়। আমি খুব অবাক হবো, যদি জানতে পারি ক্রিকেট বোর্ডের কর্তারা এঁদের জন্যে কিছু ভেবেছেন এবং করেছেন।
অজয় বসু এবং কার্তিক বসু আমাদের মধ্যে নেই। আমার স্মৃতি তাই বলছে। বাকিদের খবর কেউ জানেন? শেষ কবে শুনেছিলাম "নমস্কার! ইডেন থেকে বলছি ……….."? আমার মনে পড়ছে না।
আকাশবাণী একটু চেষ্টা করলে হয়তো এই ধারাবিবরণীগুলোর একটা সিডি বের করতে পারবে। কেউ শুনছেন?