সেদিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যা

//www.thehindu.com/mp/2008/05/14/stories/2008051450590100.htm)গত দশই মে, ব্যাঙ্গালোরের চৌডাইয়া মেমোরিয়াল হলে মান্না দের গান শুনলাম। সঙ্গে বিনাকা/সিবাকা গীতমালা খ্যাত আমিন সায়ানি

টিকিটের দাম ভাল। তবুও লোকজনের সমাগম বেশ ভালই হয়েছিল। দর্শকের গড় বয়স প্রায় ৪০ (চল্লিশ)। কোন স্কুল অথবা কলেজ ছাত্র চোখে পড়ল না। হয়তো কোন মান্না কণ্ঠী এলে, এনারা আসতেন!

৮৯ বছরের মান্না দে প্রায় তিন ঘণ্টা গান করলেন। শুধু আমার ভাল লেগেছে বললে কম বলা হয়। গলায় বয়সের ছাপ কখনো কখনো ধরা পড়েছে। তবে হাতি বসলেও ঘোড়ার চেয়ে লম্বা থাকে! অনেকের অনুরোধে মাত্র একটা বাংলা গান গাইলেন। “এই কুলে আমি আর ওই কুলে তুমি….”।

আমিন সায়ানির সঙ্গে অনেক গল্প করলেন। মান্না দে হিন্দী এবং বাংলায়, ওনার সময়ের প্রায় সব নায়কের গলায় গান গেয়েছেন। এমনকি কিশোরকুমারের জন্য প্লেব্যাক করেছেন। হঠাৎ গভীর রাত্রে উনি কিশোরের ফোন পেলেন। গভীর রাত্রে ফোন পেয়ে উনি অবাক। গম্ভীর গলায় ফিসফিস করে (যাতে কেউ না শুনে ফেলে!) কিশোর মান্নাদাকে জানিয়ে দিলেন যে মান্নাদা যদি পরের দিন কিশোরের জন্য গান রেকর্ডিং না করেন, তা হলে ভাল হয়। মান্নাদার খুব কৌতুহল! কোথা থেকে কিশোর ফোন করছেন? কিশোর মহাবালেশ্বরে। প্রডিউসার নাকি কিশোরকে পারিশ্রমিক দেন নি। তাই কিশোর প্রডিউসারকে ফাঁকি দিয়েছেন। গানটা নাকি কিশোরের গাওয়ার কথা ছিল। সিনেমার নামটা মান্না দে বলেন নি। আমিও জানি না।

আরও অনেক গল্প করেছেন। ছেলেবেলার গল্প। মদনমোহন, শচীন কর্তা এবং রাহুল দেবের গল্প। ওনার কাছ থেকে জানা গেল যে সায়গাল কৃষ্ণচন্দ্র দে মহাশয়কে কিষ্টবাবু বলে ডাকতেন। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে মান্না দের পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন অনিল বিশ্বাস।

সব মিলিয়ে অসাধারণ স্মরণীয় এক সন্ধ্যা।

বিরিঞ্চি বাবা

//satyajitray.ucsc.edu/films/kapurush.htmlদ্য উইক পত্রিকায় অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটা পড়ে রীতিমতো চমকে গেলাম। খারাপও লাগলো। অর্কুট, ফেসবুক থেকে শুরু করে বিগআড্ডা অবধি বর্তমানে অজস্র স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট রয়েছে।

এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে ছবি, টেক্সট, ভিডিও, অডিওর সাহায্যে মানুষ মানুষের সঙ্গে ভাবের আদান প্রদান করে, প্রাণের কথা বার্তা বলে। ঠিক আছে। ভাল ব্যাপার।

স্যোসাল নেটওয়ার্কিং সাইটে যা হয় সেটা টেলিফোন অথবা পোস্টের সাহায্য নিয়ে নীতিগত ভাবে সম্ভব। এক কালে সেটাও হতো। পত্রমিতালী অথবা পত্রবন্ধু সম্বন্ধে সঙ্গে হয়তো অনেকের ধারণা আছে।

চিন্তার বিষয়! বাস্তব জগতে যেমন প্রতারক হয়, তেমনি এই স্যোসাল নেটওয়ার্কিং জগতে প্রতারক হয়। দুঃখের বিষয় এদের ধরা বাস্তব জগতের চেয়ে অনেক শক্ত। এবং এরা আমাদের সমাজে বেশ ক্ষতি করছে। এদের মধ্যে অনেকেই আমাদের মধ্য ভদ্র সভ্য জীবন যাপন করেন। নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করা আর ভুল তথ্য দিয়ে ভূয়ো সেজে মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা এক নয়। যেমন আমি আমার ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করি নি। কিন্তু যেটুকু তথ্য দিয়েছি, সেটা ভুল নয়।

কোন এক নিলেশ সাহ (আসল নাম নয়) যিনি বাস্তবে একজন অতি সাধারণ ইঞ্জিনারিং ছাত্র, তিনি ইন্টারনেটে লণ্ডনে বসবাসকারী এক ফিটনেস ট্রেনার। এমনিতে উনি সাইকেলও ঠিক করে চালান না।

এইরকম হরি পিল্লাই (অবশ্যই নকল নাম) নামে এক জনতা ওয়েবে রাজস্থানী ফিনানসিয়াল কনসালটেন্ট অথবা ভালবাসার গুরু (লাভ গুরু)। বাস্তবে উনি সম্পূর্ণ অন্য মানুষ। ওনার স্ত্রীও নাকি জানেন না, উনি ভার্চুয়াল জগতে কি জিনিস!

এই রকম আরো অনেক তথ্য অ্যালাইভ অনলাইন লেখাটায় আছে।

বিরিঞ্চি বাবা মুর্দাবাদ!

বাংলা কম্পিউটিঙের খোঁজ খবর

অনেকদিন বাংলা কম্পিউটিঙের খোঁজ খবর নেওয়া হয় নি। শেষ নিয়েছিলাম  ২০০৬ সালে (জুন মাসের মাঝামাঝি)

আমার মতে বাংলা কম্পিউটিঙের উপর ভাল কাজের বেশীর ভাগটাই বাংলাদেশে হয়। সেটাই স্বাভাবিক। বাংলা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা। তাহলে কি হিন্দী কম্পিউটিঙের কাজ ভারতবর্ষে অনেক হচ্ছে। কিন্তু কাজ কি খুব ভাল হয়? বলতে পারব না। একুশে অথবা অমিক্রনল্যাবের মত ভাল ওয়েবসাইট আমার কোন ভারতীয় ভাষায় চোখে পড়ে নি।  ভাষা ইন্ডিয়া ব্যবহার হয়? হলে ভাল। আমার কোন কাজে লাগে না।

গুগল ঘেঁটে ইউনিকোড ভারতীয় অনলাইন এডিটরের সেরকম উল্লেখযোগ্য উন্নতি চোখে পড়ল না। মহাকবি মন্দ নয়। ইউনিকোড অনলাইন কোনমতে চলে যায়। এই অনলাইন এডিটরগুলো নিয়মিত ব্যবহার করা বেশ কঠিন। এডিটর না বলে টার্মিনাল বলাই ভাল। বার বার কপি পেস্ট করে কাজ করতে কার ভাল লাগবে? যদি গুগল ডক্সে বাংলা বা অন্য ভারতীয় ভাষার এডিটর এসে যায়, তাহলে বেশ উপকার হবে। গুগল ডক্সে ফায়ারফক্স প্লাগিন দিয়ে কাজ চালানো যায়। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে প্লাগিন হয় নাকি? মাথা ব্যাথা নেই।  কিন্তু সেটা আমার কাছে দুধের সাধ ঘোলে মেটানোর মতন। বাংলায় লিখে গুগল ডক্সে পিডিএফ ফাইল বানালে বাংলা ফন্ট আসে না। যে কোনো অনলাইন অফিসে এই সমস্যা।

তবে ভারতীয় IMEর মধ্যে এই মুহূর্তে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় হল লিপিকার। আশা রাখছি খুব শীঘ্র, একুশে (একুশে অবশ্য একটা IME নয়), অভ্র এবং শাব্দিকের মত লিপিকারও ভাল সফটওয়্যার হবে। আর একই সফটওয়্যার দিয়ে মোটামুটি সব ভারতীয় ভাষায় লেখা যায়। এটা খুব ভাল সুবিধে। লিপিকারে বাংলায় লিখতে গিয়ে কিছু সমস্যা হচ্ছে। লিপিকারকে জানিয়েছি।

এখনো বাংলায় ভাল ওপেন সোর্স পাবলিশার নেই। একদিন স্ক্রাইবাস হয়তো সেই আশা পূরণ করবে।