বাংলা পত্রিকার মাইক্রোসফট

দেশ পত্রিকা খুব নিয়মিত পড়েন না এইরকম শিক্ষিত বাঙালীর সংখ্যা প্রচুর। আমি সেই দলে। কিন্তু শিক্ষিত বাঙালী দেশ পত্রিকার নাম শোনেন নি, এটা সম্ভব নয়। সেই দেশ পত্রিকা ২ নভেম্বর, ২০০৭-এ পঁচাত্তরে পা দিল। দেশ পত্রিকার জন্ম ১৯৩৩ সালের ২৪শে নভেম্বর (১৩৪০ বঙ্গাব্দের ৮ই অগ্রহায়ণ)।

আমার ধারণা ছিল, দেশ পত্রিকা বর্তমান কালে সবচেয়ে বয়স্ক পত্রিকা। কিন্তু ২ ডিসেম্বর, ২০০৭এর দেশ পত্রিকার সংখ্যা থেকেই জানতে পারলাম শ্রীরামকৃষ্ণ সংঘ প্রকাশিত বাংলা সাময়িক উদ্বোধন পত্রিকার বয়স ১০৯ বছর।

ছোটবেলা থেকে দেশ পড়ে যাচ্ছি, যদিও প্রথমবার দেশ পত্রিকা পড়ার স্মৃতি আমার নেই। নীললোহিতের লেখার সঙ্গে আমার প্রথম পরিচয় দেশ পত্রিকায়। যতদিন পারব, সুযোগ পেলেই দেশ পত্রিকা পড়ে যাব।

কিন্তু আজ দেশ পত্রিকার কোন সমমানের প্রতিদ্বন্দ্বী পত্রিকা নেই। বাংলা সাহিত্য জগতে কল্কে পেতে গেলে দেশ পত্রিকায় লেখা প্রকাশ হলে সবচেয়ে ভাল। এটা সুস্থ নয়। দেশ পত্রিকা সাপ্তাহিক থেকে পাক্ষিক হলেও কোন পত্রিকাই সেই শূন্য স্থানটি পূরণ করতে পারল না। সাপ্তাহিক বর্তমান পত্রিকার বিক্রী হয়তো বেশ ভাল, কিন্তু দেশ পত্রিকার ধারে কাছে আসে না।

অপ্রতিদ্বন্দী দেশ এবার এগিয়ে যাচ্ছ শতবর্ষের দিকে। থামার কোন ইঙ্গিত নেই। আর সময়মতো নিজের বিন্যাস পাল্টে দিব্যি নিজেকে সমকালীন করে রাখছে।

দেশ পত্রিকাকে আমার অনেক শুভেচ্ছা জানাই। আর আমার বিনীত প্রশ্ন – “দেশ পত্রিকা কবে অনলাইন হবে?”

বাংলা ওয়েবসাইট – স্টার আনন্দ এবং আনন্দ পাবলিশার্স

স্টার আনন্দকে ধন্যবাদ। অসাধরণ না হলেও একটা মোটামুটি বাংলা ইউনিকো ভিত্তিক আধুনিক ওয়েবসাইটে জন্য।Star Ananda Website

এর পাশে আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট দেখে অবাক এবং বিরক্ত হলাম। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ৭এও নন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট দেখা যায় না। সাইটে বলা আছে নেটস্কেপ কম্যুনিকেটর ৪.০৩ অথবা এর উপরের ভার্সানে দেখা যাবে। তবে নেটস্কেপ কম্যুনিকেটর ৬.০ বাদ দিতে হবে। আমার ধারণা আনন্দ পাবলিশার্স রসিকতা করছে। কোথাও লেখা নেই, বাংলা না দেখতে পেলে কি এবং কেন করা উচিৎ?

আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট শেষ কবে সম্পাদিত হয়েছিল? সম্ভবত ২০০০ সালে। এদের ওয়েবসাইট দেখে মনে হয় যে বিটস্ট্রীম ফন্ট ছাড়া ওয়েবসাইট বানানো যায় না।

কি আর করা যাবে? আনন্দ পাবলিশার্সের ওয়েবসাইট না দেখলে কারোর কিছু Ananda Publishers Websiteএসে যায় না। 

স্টার আনন্দ ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার, ফায়ারফক্স এবং অপেরাতে সরাসরি দেখা যা ইউনিকোড ফন্ট থাকলেই চলবে। 

 

 

শেষ চিঠি

গতকাল থেকে ভেবে যাচ্ছি। কিছুতেই মনে করতে পারছি না, শেষ কবে ইনল্যাণ্ড লেটার অথবা Inland Letter. Courtsey http://www.stampsofindia.comপোস্টকার্ড ব্যবহার করেছি। কাকে লিখেছিলাম? আজ প্রায় দশ বছরের একটু বেশী হয়ে গেল আমি চিঠি লিখছি না। এবং নিজেও ব্যক্তিগত চিঠি পাচ্ছি না। প্রথমে হটমেল, তারপর ইহাহু আর এখন জিমেলের কৃপায় হাতে লেখা চিঠিকে বিদায় জানিয়েছি। আর আজকাল ই-মেল লেখাও কমে গেছে। মোবাইল ফোনের এস.এম.এস দিয়ে কাজ চলে যাচ্ছে। এছাড়া আছে অর্কুট, ফেসবুক, মাইস্পেস ইত্যাদি সামাজিক ওয়েবসাইট। আর আছে এই ওয়ার্ডপ্রেসের মত ব্লগ অথবা অনলাইন জার্নাল সাইট।

আমার একটা ডাকবাক্স আছে। তাতে ব্যাঙ্ক, টেলিফোন কম্পানী থেকে অনেক চিঠি আসে। ডাকঘর উঠে যায় নি। কিন্তু, যে কোন শহরের স্কুল অথবা কলেজ ছাত্র/ছাত্রীর কাছ থেকে কাছাকাছি কোন ডাকঘরের অবস্থান জানবার চেষ্টা করুন। অনেকেই অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকবে।

আর ডাকঘরের সঙ্গে আমাদের চিরন্তন রোমান্টিক সম্পর্কের দিন বোধহয় শেষ। রবীন্দ্রনাথের পোস্টমাস্টার থেকে কিশোরকুমারের ডাকিয়া ডাক লায়া অথবা সেদিনের চিঠি আয়ি হ্যায় পর্যন্ত নানা আঙ্গিকে গানে, গল্পে, কবিতায় এবং সিনেমায় ডাকঘর এসেছে। পত্র-সাহিত্য হয়। ই-মেলকে সাহিত্য হিসাবে ভাবা শক্ত। তবে বিবর্তন চিরন্তন। ভবিষ্যতে আমরা ভাবতেই পারি!

এর পরেও ভারতীয় ডাকঘর হাল ছেড়ে দেয় নি। আজও ভারতীয় ডাকঘর বছরে প্রায় তিনশো কোটি চিঠি বিলি করে। এখনো ভারতে ১৫৪১৪৯ ডাকঘর এবং ৫৬৪৭০১ ডাকবাক্স আছে। চাইলেই, চিঠি লেখা যায়।

আজকাল পোস্টকার্ডের দাম কত? আমি জানি না। আপনি জানেন কি?