২০০৫ সালে গোয়ায় ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল অফ ইন্ডিয়ায় পারজানিয়া সিনেমাটা প্রথম দেখান হয়। এর প্রায় দু বছর বাদে
পারজানিয়া ২৬শে জানুয়ারী (২০০৭) থেকে ব্যাঙ্গালোরে প্রথম দেখানো শুরু হল।
গত শনিবার আমি পারজানিয়া দেখলাম আমার পরিচিত এক আর্জেন্টিনীয ভদ্রলোকের সঙ্গে। উনি অল্পদিন হল ভারতে এসেছেন। এই ভারত উপমহাদেশের ইতিহাস এবং সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর সঙ্গে বিশেষ পরিচিতি থাকবার কথা নয়। তবুও আমি আশ্চর্য হলাম না, যখন দেখলাম যে আমার মত উনিও সিনেমার পর্দায় আরো একবার উপলব্ধি করলেন মনুষ্যত্যের মৃত্যু। আরো একবার বলার কারণ হল যে আবহমানকাল ধরে সারা পৃথিবীতে নানা কারণে নানা ভাবে মনুষ্যত্যের মৃত্যু হয়ে আসছে। পারজানিয়া আমাদের বোঝাল কেন সিনেমাকে সমাজের দর্পণ বলা হয়। নিজেদের বিবেককে নিজেদের সামনে দাঁড় করিয়ে দিল।
আমার ব্লগের পাঠকদের অনুরোধ করব সিনেমাটা দেখতে। হলে গিয়ে দেখলে ভাল। না হলে সিডি অথবা ডিভিডি নিয়ে এসে দেখা উচিৎ। বাংলা ব্লগ এমনিতেই খুব কম লোকে পড়ে। তবুও যদি একজনও এই ব্লগ পড়ে সিনেমটা দেখেন, তাহলে জানব যে আমার এই ব্লগ লেখা সার্থক।
পারজানিয়ার মতো সূক্ষ এবং সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে সিনেমা করতে গেলে পরিচালক রাহুল ঢোলাকিয়ার মতো সাহসী হতে হয়। ওনাকে ধন্যবাদ।
সেই প্রস্তর যুগ থেকে পারজানরা হয়তো মর্ত্যলোকে স্বর্গের স্বপ্ন দেখে আসছে। সেই স্বপ্নপূরণ না করবার জন্য আমরা সবাই চেষ্টা করে যাচ্ছি। আমি, আপনি সবাই। নিজেকে নিয়ে আমরা যে বড়ই ব্যস্ত।
আবার বলি, পারলে সিনেমাটা দেখবেন।

