এখানে না লিখে সম্পাদকের কলমে লিখলে ভাল করতাম। আরো ভাল হত যদি সম্পাদক মহাশয়কে সরাসরি প্রশ্ন করতে পারতাম। তাহলে উত্তর পেতাম।
আনন্দবাজার, বর্তমান এবং আজকাল – এই তিনটে খবরের কাগজ শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, সারা বিশ্বের বাঙালীর কাছে জনপ্রিয়। আমার মত অনেকেই আছেন যাঁরা এই কাগজের ইন্টারনেট সংস্করণের উপর নির্ভরশীল। ভারতের ক্রিকেট খেলা থাকলে, গৌতম ভট্টাচার্য এবং দেবাশিস দত্তর লেখা নিয়মিত না পড়লে, আমার ভাত হজম হয় না।
কিন্তু এটা খুবই দুঃখের ব্যাপার যে এই ইন্টানেট সংস্করণগুলি পড়ার অধিকার কেবল ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহারকারিদের। আজকাল অনেকেই মোবাইল ফোনের সাহায্যে ইন্টারনেট পৃষ্ঠা দেখেন। তাঁদেরকেও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারে দেখতে হবে। যদিও মোবাইল ফোনে সবচেয়ে প্রচলিত ব্রাউজার হল অপেরা মিনি।
এর কারণ কি? এই ইন্টারনেট সংস্করণগুলির প্রকাশ পদ্ধতি হল এম্বেডেড ফন্ট। কিন্তু এম্বেডেড ফন্ট পদ্ধতির স্বত্বাধিকার অপেরা অথবা ফায়ারফক্সের নেই। শুধু ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের আছে।
আমি বিশ্বাস করি যে এই এম্বেডেড ফন্ট পদ্ধতি খুবই কম ব্যবহার হয়। এটা আমাদের সৌভাগ্য। নয়তো ফায়ারফক্স অথবা অপেরা ব্রাউজারদের অন্যরকম ভাবতে হতো।
আনন্দবাজার, বর্তমান এবং আজকাল খুব সহজেই আমাদের মুক্তি দিতে পারে। কিভাবে? আজকের ব্রাউজারগুলি এতই উন্নত যে একটা বাংলা ইউনিকোড ফন্ট দিয়েই বাংলা পৃষ্ঠা সহজেই দেখান যায়। ইউনিকোডের সুবিধে নিয়ে নতুন করে কিছু বলার নেই। আমাদের ধরে নিতে হবে যে এই সংবাদ পত্রিকাগুলি ওদের ইন্টারনেট পৃষ্ঠা গুগলে দেখাতে চায় না। গুগল বিজ্ঞাপণ দেখানোর কথাও ভাবতে রাজি নয়।
এটাও হতে পারে যে সব জেনেও এরা এম্বেডেড ফন্ট নিয়েই খুশি। আনন্দবাজার আমাদের জানাচ্ছে যে ফায়ারফক্সে বাংলা না এলে ফায়ারফক্সে IE Tab ইন্সটল করতে। উত্তম প্রস্তাব। সেই ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারেই দেখতে হচ্ছে।
আশার কথা যে ইন্টারনেটে ভারতীয় ভাষার সংবাদ অনেকে ক্ষেত্রেই ইউনিকোড ফন্টে দেখান হয়। এদের মধ্যে বিবিসি উল্লেখযোগ্য। অবশ্য বাংলা ভাষা শুধু ভারতীয় ভাষা নয়। বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা।
তবে সবাই ফায়ারফক্স এবং অপেরাকে বর্জন করে নি। যেমন পরবাস এবং সংবাদ প্রতিদিন। পরবাস পত্রিকাও ইউনিকোড ফন্টে নয়। কিন্তু চাইলেই ইউনিকোড ব্যবহার করতে পারে। ওঁরাও বোধহয় চান না পাঠকরা সার্চ ইঞ্জিন ব্যবহার করুন।
এই পরিবর্তন আনতে গেলে সবার আগে প্রয়োজন দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারের বাইরেও ইন্টারনেট জগৎ আছে।
আর এই পরিবর্তনের অভাবে পদ্মার মত ফায়ারফক্স এক্সটেনসনের প্রয়োজন হয়।


ডিসেম্বর 10, 2006 at 9:15 am
আমি অনেক আগেই আমর ব্লগে এই বিষয়ে লিখেছিলাম । বাংলা ভাষা ইউনিকোডে না লিখলে কখনো সার্চ ইঞ্জিনে সার্চযোগ্য হয় না । ফলে এই সব দৈনিক পত্রিকাগুলোর কোনো লেখাই সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ করলে পাওয়া যাবে না । এমন কি নতুন কোনো লেখা এলে তার ফিডও পাওয়া যাবে না । ফিড ছাড়া কি কোন খবরের সাইট কল্পনা করা যায় ?
এমবেডেড ফন্ট ব্যবহার করার একটা কারন বোধহয় হল যাতে সব মানুষ অফিস বা সাইবার ক্যাফেতে বসে সাইটগুলো দেখতে পান । কারন এইসব জায়গাগুলোতে অনেক সময়েই ইউনিকোড সাপোর্ট ইনস্টল থাকে না । কিন্তু এখন যখন প্রচুর কনভার্টার পাওয়া যায় তখন আরেকটি ইউনিকোড ভার্সন দেখাতে অসুবিধা কোথায় । যেমন সামহোয়ার ইন ব্লগে যেমন ইউনিকোড এবং ইউনিকোড নয় এমন দুটি ভার্সনই সাপোর্ট করে ।
আসল কথা হল সদিচ্ছা । পশ্চিমবঙ্গের মানুষের বাংলা কম্পিউটিং সম্পর্কে আগ্রহ খুব কম । বেশির ভাগ লোকই মেল চ্যাট বা ব্লগ করার সময়ে রোমান বাংলা ইউজ করন । আর আনন্দ বাজার যারা দাবি করে যে পড়তে হয় নইলে পিছিয়ে পড়তে হয় তারা এই ব্যাপারেই বহু পিছিয়ে আছে ।
জানুয়ারি 7, 2007 at 3:59 am
আমরাও একমত যে আজ হোক কিংবা কাল হোক আমাদের ইউনিকোডকে গ্রহণ করতে হবে। উল্লখ্য যে আমাদের সাইটটি সম্পুর্ণ ইউনিকোডে প্রকাশিত। বাংলা ভাষায় আমরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির কথা তুলে ধরি।
http://biggani.com
অগাষ্ট 4, 2007 at 7:01 am
লেখার ফন্ট বড় না হলে পড়াই যাচ্ছে না