ইংরেজি ভাষায় এই বিষয় অনেক ভাল বই এবং ওয়েব সাইট আছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় এই বিষয় কোন বই আছে কিনা আমার জানা নেই। আর ওয়েব সাইট এই মুহূর্তে অনেক দূরের চিন্তা।
বিষয়টা শুধু ভাষাবিজ্ঞানী নয়, সাধারণ মানুষের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ এবং আকর্ষণীয়। ইংরেজি ভাষার মত বাংলা ভাষায় প্রায় প্রতিটি শব্দের ব্যুৎপত্তির সঙ্গে যুক্ত থাকা উচিৎ কোন ঐতিহাসিক তথ্যসমৃদ্ধ এবং বিনোদনমূলক গল্প। যেমন ইংরেজিতে comma শব্দ গ্রীক ভাষা থেকে এসেছে এবং ১৫৩০ সাল থেকে ব্যবহার হয়ে আসছে। বাংলা ভাষার কমার ইতিহাস কোথায় পাব?
আর আছে। রান্না প্রাচীন পেশা। রাঁধনি/রাঁধুনি শব্দটা স্ত্রীলিঙ্গ শোনালেও, এটা পুংলিঙ্গও। অর্থাৎ উভলিঙ্গ। অবশ্য রাঁধনী/রাঁধুনীর প্রতিশব্দ পাচকের স্ত্রীলিঙ্গ পাচিকা। বাংলা ভাষা সংস্কৃত ভাষা থেকে ব্যুৎপাদিত। এক্ষেত্রে একটা কথা বলা দরকার। রাঁধনি/রাঁধুনি শব্দটার ভিত্তি, রন্ধন হলেও, খুব সম্ভবত সরাসরি সংস্কৃত ভাষা থেকে ব্যুৎপন্ন হয় নি। বাঙালীরা সব সময় ধরে নিয়েছে মেয়েরা রান্না করবে। এ বিষয় ভাষাবিজ্ঞানীরা ভাল ভাবে আলোকপাত করতে পারবেন।
একদিন আমার বন্ধুর সঙ্গে আলোচনার সময় একটা শব্দ আমাকে আকৃষ্ট করল। শব্দটা হল প্রোষিতভতৃকা। শব্দটার মানে জানার জন্য সহায়ক লিঙ্কে যেতে হবে। প্রোষিতভতৃকার স্বামী বিদেশে থাকেন। আমার ভাল লাগল যখন দেখলাম যে এর বিপরীতও হয়। প্রোষিতভার্যের স্ত্রী বিদেশে থাকেন। প্রোষিতভতৃকার মত, প্রোষিতভার্য শব্দটার সঙ্গে আমি আগে পরিচিত ছিলাম না। আমি প্রথমে আশা করি নি যে প্রোষিতভার্য অভিধানে থাকবে। যথারীতি প্রোষিতভতৃকা/প্রোষিতভার্য শব্দের ব্যুৎপত্তি/উৎপত্তি আমি জানি না। আগেই বলেছি যে আমার কাছে বই নেই এবং ইন্টানেটে কোন লিঙ্ক নেই। যাইহোক, যদি জানা যায় যে প্রোষিতভতৃকা/প্রোষিতভার্য শব্দের সঙ্গে যুক্ত স্বামী/স্ত্রী কর্মের প্রয়োজনে বিদেশে থাকেন, তাহলে ভাল ব্যাপার। আর যদি জানা যায় যে স্ত্রী পিত্রালয়ে গেছেন, তাহলে বাঙালীরা মেনে নিয়েছেন যে কেবল স্বামীই কর্মের প্রয়োজনে বিদেশে যেতে পারেন। আজকের যুগে এটা মোটেই সত্য নয়।
এবার একটু অন্য ভাবে চিন্তা করা যাক। মনে পড়ল সানন্দা পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন অপর্ণা সেন, সম্পাদিকা নয়। একদম ঠিক। মানুষের পেশাকে নারী ও পুরুষ অনুযায়ী আলাদা শব্দ ব্যবহার করে উল্লেখ করার কোন মানে হয় না। সম্পাদনা অথবা লেখা একটা কাজ। সেটা নারী করল অথবা পুরুষ করল – কি এসে যায়? এইভাবে ভাবলে আমাদের মেনে নিতে হবে যে ইংরেজি ভাষা বাংলা ভাষার চেয়ে অগ্রগামী। যেমন cook, singer, editor ইত্যাদি। ব্যতিক্রমও আছে। যেমন actor/actress ইত্যাদি। ঠিক আছে। মেনে নিলাম বাংলা ভাষার এই সীমাবদ্ধতা। আশা রাখি যে ক্রমশঃ এই সীমাবদ্ধতা দূর হবে। ভাষার বিবর্তন সব সময় হচ্ছে।
এই বিবর্তনকে জানা এবং এই বিবর্তনকে ধরে রাখা বাংলা ভাষা এবং বাঙালীর কাছে খুবই প্রয়োজনীয়।
এইসব প্রশ্ন চিন্তা মাথায় আসে, তখন মনে হয় – আহা সিধু জ্যাঠা থাকলে খুব ভাল হত! যাঁরা ফেলুদার সঙ্গে পরিচিত তাঁরা জানেন সিধু জ্যাঠা কে। সিধু জ্যাঠারা আমাদের মধ্যেই আছেন। তাঁদের বিশাল জ্ঞানের ভাণ্ডার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব।
যাঁরা এই বিষয় ইন্টারনেটে তথ্যের যোগান দিতে ইচ্ছুক, অথচ নতুন ওয়েবসাইট খুলতে আগ্রহী নন, তাঁদেরকে আমার অনুরোধ উইকিপেডিয়া ব্যবহার করুন। শুধু বাংলায় লেখার জন্য উইকিপেডিয়া আছে।

