Kanan Devi remembers Kishore Kumar

২২ আশ্বিন ১৯০৯ শকাব্দ বুধবার ২৭ আশ্বিন ১৩৯৪ বঙ্গাব্দ ১৪ অক্টোবর ১৯৮৭র আজকাল পত্রিকার শহর সংস্করণের প্রথম পাতা এখন আমার সামনে খোলা। ওই পাতায় ডান দিকে প্রধান খবর ওয়ান ডে ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রেকর্ড ৩৬০ রান আর ভিভ রিচার্ডসের বিশ্বকাপ ক্রিকেটে ব্যক্তিগত রানের ৩৬০ রানের বিশ্বরেকর্ড। কিন্তু আমি এই খবরের জন্য এই কাগজটা প্রায় দু দশক ধরে আমার কাছে রাখি নি। রেখেছি ওই কাগজের প্রথম পাতার বাঁদিকের অনেক বড় করে লেখা প্রধান খবরের জন্য। ঠিক ধরেছেন – কিশোরকুমারের জীবনাবসান। গান শেষ। বোম্বাই বিনিদ্র। কলকাতা স্তব্ধ। বিশ্বকাপ ক্রিকেট না চললে এই খবরটাই পুরো পাতা জুড়ে থাকত।

কিশোরকুমার এবং কিশোরকুমারের গান নিয়ে আজ আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। ওনার গান ভাষার গন্ডী ছাড়িয়ে মানুষের হৃদয়ে প্রবেশ করেছে।

আমি কিশোরকুমার সমন্ধে অনেকের লেখা এবং স্মৃতিচারণ পড়েছি। কিন্তু কাননদেবীর স্মৃতিচারণ, আমার জানা, কেবল একবারই বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। আমার কলেজ-জীবনে, ওই লেখা পড়ে, আমি বুঝেছিলাম যে কিশোরকুমারের গান আট থেকে আশি সবাইকে ছুঁয়েছে।

১৬ই অক্টোবার ১৯৮৭র বর্তমান পত্রিকার অষ্টম পৃষ্ঠার প্রথম কলম থেকে কাননদেবীর স্মরণ নীচে তুলে দিলাম।

অতীত দিনের খ্যাতনামা অভিনেত্রী, গায়িকা কাননদেবী কিশোর কুমারের মৃত্যুতে অত্যন্ত শোকাহত। “আমার বৌমা যখন আমাকে খবরটা দিল তখন আমি হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলি কিশোরের আয়ু বেড়ে গেল। তখন বৌমা বল্লে, না মা খবরে আমরা দেখলাম। বিশেষ খবরগুলো আবার বলে, তাই তাড়াতাড়ি TV-র সামনে বসে পড়লাম। শুনে হতবাক হয়ে গিয়েছিলাম। আমি তো এখনো ভাবতে পারছি না যে কিশোর নেই। কিবা বয়স হয়েছিল ওর – মাত্র ৫৮ বছর বয়েসে ও চলে গেল।” কথাগুলো এক নিশ্বাসে বলে গেলেন কাননদেবী। ‘ছোটদের মৃত্যু সমন্ধে বলতে কিরকম যেন লাগে। এই যে আজ ওর মরদেহ খাণ্ডোয়াতে নিয়ে যাওয়া হলো খবরে শুনলাম, আমার কিন্তু এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না। কিশোর, অশোকবাবু ওদের সঙ্গে আমাদের একটা পারিবারিক সম্পর্ক। একসঙ্গে কত বেড়িয়েছি সবাই কিশোরের সঙ্গে দেখা হয়েছে, কত গল্প গুজব গান বাজনা হয়েছে – সেসবই আজ স্মৃতি। আমি বরাবরই কিশোরের গানের ভক্ত, তবে ওর সব গানের নয়। যেগুলো সিরিয়াস গান সেগুলো অপূর্ব। আমার বাড়িতে প্রায় পঞ্চাশখানা কিশোরের গানের ক্যাসেট আছে। সব থেকে বড় ব্যাপার হ’ল একেবারে চ্যাংড়ামোর গান থেকে শুরু করে দারুণ সিরিয়াস গান ও অত্যন্ত দক্ষতার গাইতে পারত যা আর অন্য কেউ পারেন না। ওর গলা ছিল ভগবানদত্ত, ওতো কারুর কাছে শেখেওনি। এছাড়া ওর ছবিও দেখেছি কয়েকটা। অভিনেতা হিসাবেও কিশোর অনেক বড় ছিলো। আজ আমার অশোকবাবুর কথা ভেবে খারাপ লাগছে। পরপর স্ত্রী ও ভাইয়ের শোক পেলেন তিনি। সব থেকে বড় কথা হলো ভারতীয় সঙ্গীত জগতে কিশোরের অভাব কোনদিনই পূর্ণ হবে না।’

Bangla (Bengali) and Scalable Vector Graphics

Scalable Vector Graphics (SVG) সম্বন্ধে প্রাথমিক ভূমিকা এখানে পেয়ে যাবেন। যদি আরও আগ্রহ থাকে তাহলে এই পৃষ্ঠা দেখুন। আমি কেন SVG পছন্দ করতে শুরু করেছি? কারণ (ক) xml (খ) কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বত্বাধিকার নেই। কিছু সুবিধা একপ্রকার অপ্রতিম। যেমন SVG ছবি বড় করলেও jpeg অথবা gif ছবির মত মান খারাপ যায় না।

SVGর প্রচুর সুন্দর উদাহরণ হয়। কিন্তু দেখবেন কি করে? সরাসরি দেখতে চাইলে (ক) ফায়ারফক্স (২.০ হলে ভাল) এবং (খ) অপেরা ৯ ব্যবহার করুন। আর যদি ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করতে চান তাহলে অ্যাডোবের প্লাগিন ইনস্টল করুন। SVG দেখাবার ব্যাপারে অপেরা ৯ এবং অ্যাডোবের প্লাগিন ফায়ারফক্সের চেয়ে এগিয়ে আছে। SVG অ্যানিমেশন পুরোপুরি ফায়ারফক্স ব্রাউসারে দেখা যায় না।

SVGর প্রতিপক্ষ কারা? আমার মতে ম্যাক্রোমিডিয়ার (বর্তমানে অ্যাডোব) ফ্ল্যাস এবং কিছুটা pdf। লক্ষ্য করে দেখুন যে অ্যাডোব কিন্তু SVG, ফ্ল্যাস এবং pdf তিনটেই সমর্থন করছে। মাইক্রোসফটও করে। যেমন ভিসিওতে এবং লাইভ লোকালেগুগলও বাদ যায় কি করে?

SVGর তুলনায় ফ্ল্যাস এবং pdf আজও অনেক বেশী জনপ্রিয় এবং গ্রহণযোগ্য। কিন্তু SVGর ব্যবহার বাড়ছে। SVG কি ফ্ল্যাসের তুলনায় খারাপ? যদি SVG ১.২এর সঙ্গে তুলনা করা হয় তাহলে SVG অনেক ভাল। কিন্তু সম্পূর্ণ SVG ১.২ ভিত্তিক কোন সফটওয়্যার নেই।

আর pdf? pdf থেকে SVGতে পরিবর্তন সহজেই করা যায়। তবে আমার জানা নেই SVG ফাইল pdfএর মত সুরক্ষিত করা যায় কিনা। এছাড়া pdfএর সব সুবিধাই SVGতে পাওয়া যায়। তারপরে SVGর নিজস্ব বৈশিষ্টের জন্য pdfএর থেকে এগিয়ে থাকবে।

এবার আসি ইউনিকোড বাংলা প্রসঙ্গে। ডলার খরচা করলে pdf, SVG এবং ফ্ল্যাসে ইউনিকোড বাংলায় লেখার অনেক সফটওয়ার পাওয়া যেতে পারে। আমি এই আলোচনা ওপেনসোর্স সফটওয়ারে সীমাবদ্ধ রাখছি। pdfএ বাংলা লেখা সোজা। নতুন করে কিছু বলবার নেই। আর এই সাইটে অনেক ওপেনসোর্স ফ্ল্যাস সফটওয়্যারের খোঁজ পাওয়া যাবে। কিন্তু এই ওপেনসোর্স সফটওয়্যার দিয়ে খুব সহজে ইউনিকোড বাংলা লেখা যাবে না।

SVG লেখার সফটওয়্যারগুলোর মধ্যে আমার ভাল লেগেছে গ্রাফিটি এবং ইঙ্কস্কেপ। দুটোই ওপেনসোর্স। গ্রাফিটি দিয়ে ইউনিকোড বাংলা লিখতে পারি নি। ইঙ্কস্কেপে পেরেছি। সরাসরি লিখতে পারি নি। কপি এবং পেষ্ট করতে হয়েছে। কেমন লাগে SVGতে ইউনিকোড বাংলা দেখতে? বেশ ভাল। তবে অপেরা ৯ অথবা ফায়ারফক্স – কোন ব্রাউসার, আমি ঠিক কি লিখেছি, দেখাতে পারে নি।

ওপেনঅফিসের ইম্প্রেসও (২.০.২ ভার্সান) SVG, pdf এবং ফ্ল্যাস ফাইল বানাতে পারে। কিন্তু ইউনিকোড বাংলায় কিছুই আসে না।

Bangla.svg ফাইলটা ওয়ার্ডপ্রেস আপলোড করতে দিল না। মেসেজ এলঃ

File type does not meet security guidelines. Try another.

ইমেজ ফাইল আপলোড করে দেখানোর জন্য ভাল ওয়েব সার্ভিস আছে। কিন্তু SVG ফাইল আপলোড সমর্থন করছে না। তাই আমার, বাংলা ইউনিকোডে, SVG ফাইল দেখতে হলে, ডাউনলোড করতে হবে।

Online Word Processors

ইন্টারনেটের প্রসার যত বাড়ছে, Online Word Processorএর প্রচলনও বৃদ্ধি পাচ্ছে।অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসরদের মধ্যে আমার প্রিয় হল ThinkFree যদিও Power Edit mode-এ বাংলা লেখা যায় না। Quick Edit mode-এ যায়।

দৈনন্দিন কাজের জন্য এই অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসর অধিকাংশ ক্ষেত্রে যথেষ্ট। কিন্তু কখন যথেষ্ট – যতক্ষণ আমার কম্পিউটার ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত। ব্রডব্যাণ্ড থাকলে তাও অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করার যুক্তি আছে। Dial-up থাকলে অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার করার কোন যুক্তি নেই। এছাড়া যারা ল্যাপটপ ব্যবহার করেন, তাঁরা যে সবসময় ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন এমন কোন নিশ্চয়তা নেই।

আবার অনেকেই নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য ওয়েবে (সার্ভারে) রাখা পছন্দ করবেন না।

তাহলে উপায়? এমন যদি হত যদি অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসরটা ইন্টানেটের সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও ব্যবহার করতে পারতাম। আর আমার সব তথ্য সার্ভারে না রেখে আমার কম্পিউটারে থাকত! তাহলে অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসর ব্যবহার না করার বিশেষ কোন কারণ থাকবে না।

এইরকম হয়? এতদিন হত না। আজকাল হতে শুরু করেছেমোক্সি একটা উদাহরণ মাত্র যদিও একেবারে ব্যবহারের অযোগ্য নয়। অবশ্যই মোক্সিতে বাংলা লেখা যায়। উদাহরণ দেখতে হলে এখানে ক্লিক করুন।

তাহলে কি অনলাইন ওয়ার্ড প্রসেসর জগতে একটা উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটতে চলেছে? আপনাদের মতামত জানান।

Indic IME for Firefox

আমি আগের পোষ্টে বলেছিলাম যে সবার পক্ষে বাংলা কিবোর্ড ইনস্টল করা সম্বভ নয়। আজকে একটা নতুন ধরণের প্রচেষ্টা চোখে পড়ল। খুব ভাল উদ্যোগ। যাঁরা ফায়ারফক্স ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এই ইন্ডিক আইএমি এক্সটেনসন। ফায়ারফক্সের এক্সটেনসন ইনস্টল করবার জন্য প্রসাসনিক অধিকার (admin mode) দরকার নেই। তবে এই এক্সটেনসন ইনস্টল করে বাংলায় লেখা ব্রাউসারের বাইরে সম্বভ নয়। মন্দ কি? ডেস্কটপের মত, ব্রাউসার অ্যাপ্লিকেশনেও আজকাল ওয়ার্ড প্রসেসিং করা যায়।

কেমন কাজ করে এই ইন্ডিক আইএমি এক্সটেনসন? নিজেই একবার ইনস্টল করে দেখে নিন। খারাপ লাগবে না। স্ক্রিনসট দেখতে হলে এখানে ক্লিক করুন। তবে এখনো অনেক পথ যেতে হবে। এ ছাড়া, প্রত্যেক ভাষার জন্য আলাদা ডকুমেন্টেশন থাকলে ভাল হয়। বর্তমানে ডকুমেন্টেশন অল্প।

তাহলে আর বিলম্ব কেন? এতক্ষণে, আশা করি, ইনস্টল করে ফেলেছেন। কেমন লাগল? সে কি! এখনো করেন নি? শীঘ্র করুন।